1. s.m.amanurrahman@gmail.com : admi2017 :
ঈশ্বরদী রেলের সিংহভাগ কোয়ার্টার এবং জমি অবৈধ দখলদারদের দখলে - Dailyvision24.com
সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদী রেলের সিংহভাগ কোয়ার্টার এবং জমি অবৈধ দখলদারদের দখলে

ভিশন ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

পাকশী বিভাগীয় রেলের অধীনে ঈশ্বরদীতে রেলওয়ের সিংহভাগ আবাসিক কোয়ার্টার এবং ফাঁকা জমি অবৈধ দখলদারদের দখলে রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পরিত্যক্ত ঘোষিত ৩৯৬ টি ইউনিটও এরমধ্যে রয়েছে। ফলে রেলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। বাড়ি ভাড়া কর্তনকৃত হতে অর্থ প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অবৈধ দখলদারদের কারণে রাজস্ব আয় অর্জনে বঞ্চিত হচ্ছে রেল।
রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় এষ্টেট অফিসের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ রেল শহর ঈশ্বরদীতে ৩৪২টি রেলওয়ের আবাসিক ভবন রয়েছে। এই ভবনগুলোতে মোট ইউনিটের সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ২১২টি। এই ইউনিটগুলোর প্রায় সিংহভাগ বেশী অবৈধ দখলদারদের দখলে রয়েছে। পরিত্যক্ত ঘোষিত ৩৯৬টি ইউনিটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ অবৈধভাবে বসবাস করছেন। সূত্র জানায়, এই আবাসিক ভবনগুলো মূলত: দুই ও এক ইউনিটের। নিম্নআয়ের এবং অবাংগালি মানুষই এই কোয়ার্টারগুলোতে বসবাস করছেন। তবে এদের কাছ থেকে কেউ কেউ নিয়মিত ভাড়াও আদায় করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই কোয়ার্টার কারা ভাড়া দিয়েছেন বা কত টাকা ভাড়া দিতে হয়, এব্যাপারে বসবাসকারীরা কেউই মূখ খুলতে রাজী হয়নি।
তবে রেল কর্তৃপ বলছেন, বৈধ কোন বসবাসকারী এসব ভবনে বসবাস না করায় তারা ভাড়া খাতে রেলের আয় অর্জন হচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করে অবৈধ বাসিন্দা বলেন, আগে আমার বাবা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। জন্মের পর হতে এখানে আছি। তাই এখনও বাস করছি। এসব বাসায় এমন অনেকেই রয়েছেন, যাদের বাপ-দাদা আগে রেলে চাকরি করতেন। সেই থেকে উত্তরাধিকারের মতোই অনেকে বাস করছেন।
এসব পরিবার বড় হয়ে যাওয়ায় কোয়ার্টারের সামনে ও পিছনের ফাঁকা জায়গা দখলে নিয়ে সেমিপাকা দিব্যি বসবাস করে চলেছেন। এজন্য রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নেয়া হয়নি। মাঝে মধ্যেই এসব কোয়ার্টারের পজিশন হাত বদল হয়। হাত বদলের সময় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলে জানা গেছে। রেলের বিদ্যুৎ সংযোগের বাইরেও অনেকেই কোয়ার্টারে বিদ্যুৎ সংযোগও নিয়েছে।
অবৈধ বসবাসকারীরা পৌর এলাকার সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে হয় না। ঈশ্বরদীর রেলওয়ের আবাসিক কোয়ার্টারের আশে পাশে বিস্তর ফাঁকা জায়গা ছিল। এই জায়গাগুলোতে এখন বাড়িঘর তুলে বিপুল পরিবার অবৈধভাবে বসবাস করছে। ঈশ্বরদীর নূরমহল্লা, বস্তিপাড়াসহ ফাঁকা মাঠের জমির দখলদাররা হরহামেশা প্রতি কাঠা ৫০-৭০ হাজার টাকা দামে বিক্রি করলেও দেখার কেউ নেই। অথচ এই জায়গাগুলো বৈধভাবে লীজ দেয়া হলে রেল প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় অর্জন করতে পারে।
এব্যাপারে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) ও বিভাগীয় এষ্টেট অফিসারের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
রেল শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গির আলম বলেন, রেলওয়ে কোয়ার্টর সংস্কার এবং অবৈধ দখলদারদের নিকট হতে জমি ও কোয়ার্টার দখলমুক্ত করতে পদক্ষেপ গ্রহন জরুরী।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
স্বত্ব © ২০২১ ডেইলি ভিশন টুয়েন্টিফোর
Theme Customized BY NewsFresh.Com
%d bloggers like this: